ড্রোন কি?ড্রোন কিভাবে কাজ করে?ড্রোন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

ড্রোন কি? কিভাবে ড্রোন কাজ করে?এই প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের বন্ধুদের আড্ডায় কথায় কথায় আমার বন্ধুরা করে ফেলে।যদিও আমার বন্ধুরা সবাই কমবেশি ড্রোন এর ব্যাপারে জানে।

এবং আমরাও অনেকে ড্রোন সম্পর্কে অবগত।হয়ত এর আগে কথাও আমরা ড্রোন সম্পর্কে আর্টিকেল পরেছি অথবা কারও মুখে ড্রোন সম্পর্কে শুনেছি।আজকে আমরা এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে বিস্তারিত জানবো ড্রোন কি?ড্রোন কিভাবে কাজ করে?ড্রোন আর বিমান এর কার্যক্রম মূলত একই শুধু পার্থক্য হল বিমানে পাইলট থাকে আর ড্রোনে পাইলট থাকে না,অর্থাৎ ড্রোন হল পাইলট ছাড়া বিমান।কিন্তু আপনি আবার সেই খেলনা বিমান গুলোকে(যে গুলো খানিক উচ্চতায় উরতে পারে)ড্রোন ভেবে বসবেন না 😛 কারন এই গুলাও পাইলট ছাড়া উরতে পারে।

ড্রোন শব্দের অর্থ হল গুঞ্জন,কারন যখন কোন ড্রোন উরে চলে তখন এর উরে চলার শব্দ ঠিক মৌমাছির গুন গুন করে চলার মত।আর ড্রোন এর প্রথম শর্ত হল যেকোনো ড্রোনে অবশ্যই ক্যামেরা থাকবে।তাহলে কি বুঝলেন?আমরা বুঝলাম যে খেলনা বিমান গুলো অন্তত ড্রোন নয়।কারন খেলনা বিমানে ক্যামেরা নেই।ড্রোন মূলত প্রথমে তৈরি করা হয়েছিল ছবি তোলার কাজে ব্যাবহার করার জন্য।কিন্তু বর্তমানে শুধু ছবি তোলার কাজেই ড্রোন ব্যাবহার হচ্ছে না।ব্যাবহার করা হচ্ছে,ছবি তোলার কাজে,কোন পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছানর জন্য ড্রোন ব্যাবহার করা হচ্ছে,সিনেমার শুটিং এর কাজে ড্রোন ব্যাবহার হচ্ছে,যুদ্ধে ড্রোন ব্যাবহার করা হচ্ছে।এই রকম আরও অনেক কাজেই বর্তমানে ড্রোন ব্যাবহার বেড়েই চলেছে,এখন আমরা জানবো কোন ড্রোন কিভাবে কাজ করে?

ড্রোন কিভাবে কাজ করে?(How Do Drones Work?):

যেকোনো ড্রোনই মূলত ইউএভি সিস্টেমে কাজ করে,ইউএভি এর পূর্ণ অর্থ হল “আনম্যানড এরিয়েল ভেহিকেল”(Unmanned Aerial Aehicle)।এর আবার দুইটি প্রকার রয়েছেঃ ১) সাধারণ ইউএভি এবং ২) সামরিক ইউএভি।সাধারণ ইউএভি গুলোতে মূলত একটি ক্যামেরা,পাখা এবং কিছু সংখ্যক সেন্সর থাকে,যা পথ দেখিয়ে সঠিক ভাবে চলতে সাহায্য করে।অন্য দিকে সামরিক ইউএভি তে ককপিট,স্পাই ক্যামেরা,লেজার,জিপিএস,সেন্সর,লাইটিং সেন্সর ইত্যাদি ইত্যাদি।তবে ইউএভি সাধারণ হোক আর সামরিক হোক তা অবশ্যই রিমোট এর সাহায্যে পরিচালনা করতে হয়।

তবে সামরিক ইউএভি এর সবকিছু থাকে সামনের দিকে আর এই কারনেই এটি মূলত দীর্ঘ পথ পারি দিতে পারে।আর সামরিক ইউএভি এর জন্য অবশ্যই একটি রানওয়ে প্রয়োজন হয়।একটি ড্রোন এর মূলত দুইটি অংশ থাকে,একটি ড্রোন নিজেই আর একটি ড্রোন এর কন্ট্রোল সিস্টেম।গ্রাউন্ড কন্ট্রোলার নিচে থেকে ড্রোনে নির্দেশ দেয় আর সেই নির্দেশ উপগ্রহ এর মাধ্যমে ড্রোন এর কন্ট্রোল অংশতে পৌছায় আর তখন সেই ড্রোন সেই নির্দেশ অনুসারে কাজ করে।এই সম্পূর্ণ পক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র দুই সেকেন্ড।

রাডার পজিশন (Radar Position):

রাডার পজিশন বলেতে এখানে বুঝান হয়েছে রাডার পাইলট কে,রাডার পাইলট সংক্রিয়ভাবে নিজের অবস্থান নিরনয় করতে পারে এবং কন্ট্রোলারকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানাতে পারে।রাডার পজিশনে “কমান্ড ব্যাক টু হোম সিস্টেম” নামে একটি অপশন থাকে যার মাধ্যমে ড্রোনটি যে অবস্থানেই থাকুক না কেন অটোমেটিক তার নিজের অবস্থানে ফিরে আসতে পারে কোন রকম কন্ট্রোল ছাড়াই।তবে উল্লেখ্য যে,“কমান্ড ব্যাক টু হোম সিস্টেম” এই সিস্টেম শুধু মাত্র সামরিক ড্রোনে ব্যাবহার করা হয়।

জাইরো পজিশন সিস্টেম (Xero Positioning System):

জাইরোস্কোপ সিস্টেম এর মাধ্যমে নিজের এবং আশেপাশের সব কিছুর অবস্থান নির্ণয় করাকেই জাইরো পজিশন সিস্টেম বলা হয়।এবং এই জাইরো পজিশন সিস্টেম এর জন্যই যেকোনো ড্রোন ভালোভাবে আকাশে উরতে পারে এবং সঠিকভাবে ভুমিতে ল্যান্ডিং করতে পারে।জাইরো পজিশন সিস্টেম প্রথমে যে কাজ করে সেটি হল সর্বপ্রথম উত্তর মেরু নির্ণয় করা,এরপর এর আশেপাশে থাকা সকল ড্রোন,বিমান এবং অন্যান্য সকল বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা।এই পক্রিয়া সম্পন্ন হতে একটু বেশী সময় লাগলেও এটি একদম সঠিক অবস্থান বলে দিতে পারে।আর এই কারনেই সকল প্রকার সামরিক ড্রোনে জাইরো পজিশন সিস্টেম ব্যাবহার করা হয়।

ফ্লাইজোন প্রযুক্তি (Fly Zone Technology):

আপনি কি কখনও শুনেছেন বিমানের সাথে ড্রোনের দুর্ঘটনা ঘটেছে?না হয় নি।আর দুর্ঘটনা না হবার পিছনে রয়েছে এই ফ্লাইজোনের কারসাজি।ফ্লাইজোন প্রযুক্তিতে মূলত দুই ধরনের তথ্য দেওয়া থাকে।এক,কোন ড্রোন যে এলাকায় উড়ানো হয় সেই এলাকার বিমান চলাচলের সময়সূচি সেই ড্রোনে ইনপুট দেওয়া থাকে,আর তখন সেই ড্রোন সেই এলাকায় সেই অনুসারে বিমান চলাচলের পথ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলে।আর একটি হল ফার্মওয়্যার ব্যবহার করে এওবি নির্ণয় করা।কিন্তু এই এওবি নিয়ে ড্রোন নির্মাণ সংস্থাগুলো কোঠর গোপনীয়তা অবলম্বন করে।আর এই কারনেই এওবি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া যায় নি,আর যতটুকু পাওয়া গেছে তা আমি ক্লিয়ার বুঝতে পারিনি সুতরাং এই এওবি সিস্টেম এর কাজ এর বিস্তারিত তথ্য দিতে না পারায় আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

এফ পি ভি প্রযুক্তি (FPV Technology):

এফপিভি এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে ফাস্ট পারসন ভিউ।অর্থাৎ,যেকোনো ড্রোন প্রথম তাকেই টার্গেট করবে যাকে সর্বপ্রথম মাটিতে দেখবে।এফপিভি তে যে ক্যামেরা আছে সেই ক্যামেরা মাটিতে অবস্থানরত যেকারো সুনিদিষ্ট তথ্য দিতে সক্ষম।কিন্তু এই প্রযুক্তি বনজঙ্গল বা ঘন বসতিপূর্ন এলাকাতে সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম নয়।আর এই কারনেই বিজ্ঞানীরা এফপিভি এর বিকল্প কিছু চিন্তা করছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেল কেমন লাগল অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।আপনাদের ভালো লাগলে এই রকম লেখা আরও নিয়ে আসব ইন্সটাবাংলাতে।আর আপনাদের মন্তব্য পেলে পরের লেখা লিখতে উৎসাহ পাব।

Leave a Comment