কন্টেন্ট রাইটিং এর খুঁটিনাটি-পর্ব-১ (কন্টেন্ট রাইটিং এর কিলার টিপস)

বর্তমান যুগে ডিজিটাল দুনিয়া যেন কন্টেন্ট এ ভরপুর এক দুনিয়া। অনলাইন প্লাটফর্মে কন্টেন্ট ছাড়া আছে কি? আমরা ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখছি সেগুলো ও এক ধরনের কন্টেন্ট, গুগল কিংবা ব্রাউজার থেকে কোনো আর্টিকেল পড়ছি সেটা ও এক ধরনের কন্টেন্ট। এই যে আপনারা আমার এই লিখাটা পড়ছেন? এটা ও এক ধরনের কন্টেন্ট। তবে, কন্টেন্ট অনেক ধরনের হতে পারে। যেমন : ভিডিও কন্টেন্ট, কন্টেন্ট রাইটিং, ফটো কন্টেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি।

ছোট বেলা থেকে আমরা অনেকেই লিখালিখির পিছনে আগ্রহী হয়ে থাকি। আর আমাদের এই লিখাগুলো গল্প, কবিতা, উপন্যাস কিংবা যেকোনো ধরনের লিখা হতে পারে৷ আর আমাদের এই লিখা যদি একটু ভালো মানের হয় তাহলে আপনি এই কন্টেন্ট রাইটিং করেই পার্ট টাইম জবের মতো কিংবা নিজের তেমনি আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কন্টেন্ট রাইটিং এর খুঁটিনাটি সম্পর্কে, শেয়ার করবো আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা।

কন্টেন্ট রাইটিং কি? ও কত প্রকার?(What is Content Writing? How Many Types?):

কন্টেন্ট রাইটিং কি এটা যদি সহজ ভাষায় বলি তাহলে এটি হচ্ছে যেকোনো একটি বিষয়ের উপর কিংবা যেকোনো একটি বিষয়বস্তুর উপর লিখা৷ এই লিখা সাধারণত ৩০০-৫০০ শব্দ, ৫০০-১০০০ শব্দ কিংবা ১ হাজার থেকে দুই – তিন- পাঁচ হাজার পর্যন্ত ও হতে পারে৷ অর্থাৎ, আপনি যেকোনো টপিক কিংবা বিষয়বস্তুর উপর আপনার ইচ্ছানুযায়ী শব্দ সংখ্যার ভিতরে একটি কন্টেন্ট লিখবেন। কন্টেন্ট রাইটিং ব্যাপারটা আমরা আর্টিকেল রাইটিং হিসেবে ও জানি।

কন্টেন্ট রাইটিং অনেক ধরনের আছে। যেমন : এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট রাইটিং, এফিলিয়েট কন্টেন্ট রাইটিং, ব্লগ কন্টেন্টরাইটিং, ই-বুক, ম্যাগাজিন কন্টেন্ট রাইটিং, পত্র পত্রিকায় কন্টেন্ট রাইটিং, একাডেমিক কন্টেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ট্রান্সলেশন, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন রাইটিং, নিউজ রাইটিং, শর্ট স্টোরি / আর্টিকেল রাইটিং। তাছাড়া আর ও অনেক ধরনের কন্টেন্ট রাইটিং করা যেতে পারে।

কন্টেন্ট রাইটার হতে যোগ্যতাঃ(Qualification to be a Content Writer):

একজন কন্টেন্ট রাইটার কোন বিষয়ে স্নাতক পাশ করে এ পেশায় ফুল-টাইম কাজ করা সম্ভব। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী হলে পার্ট-টাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে।টেলিভিশন আর প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক হতে চাইলে সাংবাদিকতায় পড়াশোনা থাকা ভালো। তবে যেহেতু এটি একটি সৃজনশীল পেশা, সেহেতু পূর্ব অভিজ্ঞতা আর লেখার মানের উপর নির্ভর করে কাজ পাওয়া সম্ভব। তবে, বর্তমানে অনেক স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থী কন্টেন্ট রাইটিং করছে। অনেকেই আবার ছোট্ট ছোট্ট গল্প, কবিতা লিখছেন। তাছাড়া কন্টেন্ট রাইটার হতে হলে আপনাকে নিজের ইচ্ছা শক্তি, সামর্থ্যকে প্রমাণ করে আপনার কন্টেন্ট রাইটার হাওয়ার যোগ্যতা দেখাতে এবং যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

কন্টেন্ট রাইটারদের জন্য জরুরি বিষয়সমূহঃ(Important Things for Content Writers):

১.একটি সঠিক আর্টিকেল টপিকঃ(A Proper Article Topic):

Select Topic.jpg
Select Your Topic,Image Source: towardsdatascience.com

একটি সঠিক আর্টিকেল লিখার আগে আপনাকে সর্বপ্রথম আর্টিকেলের টপিক নির্বাচন করতে হবে। কারণ, আপনি কোন টপিকের পর একটি আর্টিকেল লিখবেন সে অনুযায়ীই আপনাকে আর্টিকেল লিখতেব হবে।এটার জন্য প্রয়োজন কম্পেটিটর এনালিসিস কোন ধরনের আর্টিকেল আপনার নিশের মধ্যে খুব জনপ্রিয়  এবং প্রকাশ করার পর পর ভালো মানের ট্র্রফিক/ ভিজিটর পেতে পারেন। তবে এ যেনো আপনাকে আপনার কম্পিটিটরদের কথা ও মাথায় তাখতে হবে। আপনি buzzsumo বা semrush নামক টুলের মাধ্যমে টপিক সিলেকশন করতে পারেন বা যাচাই করতে পারেন কোন আর্টিকেল প্রচুর ট্রাফিক পাচ্ছে।

২. প্রাথমিক রিসার্চ করুনঃ(Do Basic Research):

Content Idea Research.jpg
Research More and More,Image Credit: online.wlu.ca

প্রাথমিক রিসার্চ এটা অনেকেই আমরা ভুল করি। প্রাথমিক রিসার্চ বলতে আপনি যে টপিকের উপর আর্টিকেল লিখবেন সেই টপিকের অন্যান্য আর্টিকেলগুলো আগে গুগল থেকে পড়বেন। অন্তত সেও টপিকে আপনার ১০টি লিখা পড়া উচিত। এরপর সেই ১০টি লিখার মধ্যে যে সব পয়েন্ট এর কমতি, ঘাটতি রয়েছে সেসব পয়েন্টকে টার্গেট করে আপনি আপনার কন্টেন্ট একদম নতুন করে লিখুন যেনো অন্য দশটি লিখার মতো আপনার লিখা না হয়। আপনার লিখা যেনো সম্পূর্ণ নতুনত্ব থাকে সেই দিক বিবেচনা করে প্রাথমিক রিসার্চ করে লিখতে থাকুন।আপনার কম্পেটিটর প্রধান কীওয়ার্ডটি ছবির অলটেক্সটে দিতে ভুলেগেছেন বা ব্লগের মেটা ডেস্ক্রিপ্টনে বা লিংকে দিতে ভুলে গেছেন যদি আপনি এই ভুল গুলি শুধরে নিয়ে সঠিক জায়গায় কীওয়ার্ড প্লেস করেন তাহলে আপনি নিজেই সঠিক জায়গায় রেঙ্ক করতে পারবেন।

৩. ভালো মানের একটি আউটলাইন রেডি করুনঃ(Prepare a Good Quality Outline):

ready your outline.jpg
Ready Your Outline,Image Credit: slideshare.net

একটি আর্টিকেলের একটি ভালো মানের স্ট্রাকচারই আপনার ওয়েবসাইটকে নিয়ে যেতে পারে অনেক উপরে৷ এ জন্য আপনাকে, আপনি যে সম্পর্কে আর্টিকেল লিখছেন সেই সম্পর্ক অনুযায়ী আপনার কম্পিটরের সাথে তুলনা করে আপনাকে প্রতিযোগিতা মূলকভাবে আপনার কম্পিটিটরদের চাইতে কয়েকগুন ভালো মানের কন্টেন্ট লিখতে হবে। অন্যথায় আপনি প্রতিযোগিতায় বেশীদিন টিকতে পারবেন না। যখন কোনো কন্টেন্ট লেখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন চেষ্টা করুন সেটা সম্পূর্ণ করার যখন আপনি কম্পেটিটর এনালিসিস করছেন।কারণ,নিশ্চিত আপনার কম্পেটিটর ভালো করে কন্টেন্ট লিখছেন এবং স্ট্রাকচার করেছেন বলেই তার কন্টেন্ট সঠিক জায়গায় রেঙ্ক করছে তাই যখন এগুলি এনালিসিস করছেন একটি আউটলাইন রেডি করে নিন কোন জায়গায়  কোন পয়েন্টস আনবেন আবার কোন জায়গায় আপনি গুরুত্বপূর্ণ লাইন লিখবেন তা আগে থেকেই ভেবে রাখুন।

৪.পোস্ট লেখা শুরু করুনঃ(Start Writing a Post):

start your writing.jpg
Start Your Writing,Image Credit: createwritenow.com

পোস্ট লিখা শুরু করুন। পোস্ট লিখার আগে অবশ্যই মাথায় রাখবেন যেনো আপনার পোস্ট কপি পোস্ট না হয়। কারণ, কপি পোস্ট কখনোই র‍্যাংকে আসবে না, বরং আপনার ওয়েবসাইটের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।আর যেহেতু আপনি এর আগে আইটলাইন, স্ট্রাকচার, প্রাথমিক রিসার্চ করেছেন সে অনুযায়ী এবার পোস্টের জন্য একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে লিখলেই পোস্টের অবস্থান অনেক উপরে চলে যাবে।

৫.শুরুটা এবং শেষ করুন চমকপ্রদভাবেঃ(Start and End in a Surprising Way):

Get started.jpg
Get started,Image Credit: dreamstime.com

আপনি প্রাথমিক রিসার্চ, ঘাটাঘাটি, ভালো স্ট্রাকচার রেডি করলেই হবে না। এগুলোর পাশাপাশি আপনি যদি আপনার লিখার প্রথমাংশ অর্থাৎ লিখার প্রথম দুই প্যাড়া একটু ভিন্ন লিখার চেষ্টা করতে হবে। ভিন্ন বলতে অন্য প্রসঙ্গ আনা যাবে না। তবে চেষ্টা করুন ইউনিক কিছু লিখার। প্রথমাংশের পর সবচেয়ে বেশী মনোযোগ দিতে হবে আপনাকে লিখার শেষাংশে। কারণ, লিখার শেষাংশে অনেকেই পাঠকের মন কাড়তে পারে না। তাই প্রথম অংশ সুন্দরের পাশাপাশি লিখার শেষ অংশ ও সুন্দর করে ইউনিকভাবে লিখতে হবে৷ এক কথায় এমনভাবে লিখুন যেনো পাঠক আপনার লিখা পছন্দ করতে বাধ্য হয় এবং আপনার লেখা পড়েই যেনো পাঠক পরিপূর্ণ তথ্য সহজে পায় সেদিকে ও লক্ষ রাখবেন।

৬.নিজের ভাষায় লিখুনঃ(Write in Your Own Language):

Use YourOwn Language.jpg
Use Your Own Language,Image Credit: dignited.com

নিজের ভাষায় কন্টেন্ট রাইটিং করুন। কারণ, নিজের ভাষায় কন্টেন্ট রাইটিং করলে আপনি আপনার অডিয়েন্সদের জন্য সহজে অনেক ইজিলি যেকোনো কঠিন জিনিশকে সহজে বুঝাতে পারবেন৷ সব সময় আপনি বল;বলার থেকে যদি তুমি বলে থাকি তাতে যেমন আমি বেশিই স্বাচ্ছন্দ অনুভব করি আমার বা তোমার অডিয়েন্স সেটাই অনুভব করেন।এমন ভাবে লিখুন যেমন পড়তে গেলে মনে হয়ে থাকে আমি আর তুমিতে আপনার কন্টেন্টটি সীমাবদ্ধ থাকে এবং বাইরে থেকে দেখলে বা পড়লে মনে হয় এটা দুটি ব্যাক্তির মধ্যে কনভার্সেশন বা কথোপকথন চলছে। এখনো বেনিফিট হচ্ছে যখনি আপনি তুমি ব্যাবহার করবেন নিজের ভাষায় কন্টেন্ট রাইটিং এর মধ্যে তখন আপনার পাঠক মনে করবেন শুধু একজন বা আপনার সাথে কথা বলছেন।

৭.সঠিক জায়গায় সঠিক এলিমেন্টের ব্যবহারঃ(Use of The Right Element in The Right Place):

Use Element in Content.jpg
Use Element in Content,Image Credit: wpbakery.com

সঠিক এলিমেন্টের ব্যবহার বলতে আপনি ভাবছেন ও রকমের এলিমেন্টের ব্যাবহার করবেন এবং এটার জন্য বেনিফিট বা সুবিধাতা কি ?আসলে অনেকেই আছেন যারা আপনার বড়ো আকারের লং পোস্ট পড়তে চায়না তাই তারা একবার শুধু চোখ বুলিয়ে নেন কোন জায়গায় কি আছে এবং চেষ্টা করেন ভাইটাল টপিক গুলি খুঁজে বার করে সেগুলি পড়ার আর এখানেই প্রয়োজন সঠিক এলিমেন্টের ব্যবহার করার।কারণ যখন কোনো ইউসার আপনার ব্লগে আসে কোনো পোস্টের মধ্যে কিছু পয়েন্ট খোঁজার চেষ্টা করছেন সেই পয়েন্ট গুলি সহজে খুঁজে পায় তাই সঠিক এলিমেন্টস দিয়ে সেই গুলি মার্ক করে দিন।

প্রিয় পাঠক, আজ আর নয়। অন্যদিন হাজির হবো নতুন কিছু নিয়ে আপনাদের সাথে।

Leave a Comment