সার্ভার ব্যান্ডউইথ কি?আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কি পরিমান ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন?

বর্তমান সময় ইন্টারনেট বিপ্লব এর সময় আর যত দিন যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী বেড়েই চলেছে।সেই সাথে আমাদের বিজনেসও অনেকটা ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পরছে।আর বিজনেস যখন ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পরছে তখনই আমাদের প্রয়োজন পড়ছে ওয়েবসাইট তৈরি করার।আর আমরা যখন ওয়েবসাইট তৈরি করতে যাচ্ছি তখন আমাদের একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যে,আমাদের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আমরা যে সার্ভার নিব সেই সার্ভারের ব্যান্ডউইথ এর পরিমান কত হবে?কত পরিমান ব্যান্ডউইথ আমাদের ওয়েবসাইট এর জন্য নেওয়া দরকার।আমরা আজকে এই পোস্টে জানব ব্যান্ডউইথ কি এবং আমাদের ওয়েবসাইট এর জন্য কি পরিমান ব্যান্ডউইথ এর প্রয়োজন হবে।

কম্পিউটার অথবা সার্ভার এর ভাষায় বলতে গেলে একটি সার্ভার অথবা একটি কম্পিউটার প্রতি একক সময়ে কি পরিমান ডাটা ট্রান্সফার করতে পারে সেই পরিমান ডাটা কে ব্যান্ডউইথ বলা হয়।এই পরিমান কে পরিমাপ করার জন্য একটি একক রয়েছে যাকে বিট পার সেকেন্ড বলা হয়ে থাকে।তাহলে একটি সার্ভার বা কম্পিউটার প্রতি বিট পার সেকেন্ডে যে পরিমান ডাটা ট্রান্সফার করে তাই ব্যান্ডউইথ।

ধরে নিলাম আপনার ওয়েবসাইট অনেক জনপ্রিয় এবন আপনার ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে কয়েক লাখ ভিসিটর আসে।আর এই রকম ওয়েবসাইট এর জন্য আপনি যদি অনেক কম ব্যান্ডউইথ এর হোস্টিং প্যাকেজ নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ মাস শেষ হবার আগেই ডাউন হয়ে যাবে।আর ওয়েবসাইট ডাউন থাকার ফলে আপনার ভিসিটর হারাবেন আর ভিসিটর হারালে আপনার কি কি ক্ষতি হবে এটা নিশ্চয় আপনার অজানা নয়?সুতরাং কোন হোস্টিং প্যাকেজ কেনার আগে অবশ্যই আপনাকে হোস্টিং কোম্পানির সাথে বিসাত্রিত আলোচনা করে নিতে হবে।কারন এই বিষয়ে হোস্টিং কোম্পানির চাইতে কেউ ভালো হিসাব দিতে পারবে না।আমরা এই পোস্টে আপনাকে শুধু মাত্র একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করছি…

সাধারণত সকল হোস্টিং কোম্পানি তাদের গ্রাহক কে নির্দিষ্ট হোস্টিং প্যাকেজ অফার করে যেমনঃ ১ জিবি,২  জিবি,৫ জিবি,১০ জিবি,৫০ জিবি,১০০ জিবি ইত্যাদি।আর ব্যান্ডউইথ হোস্টিং প্যাকেজ এর আকারের উপর নির্ভর করে।আপনার যদি কোন হোস্টিং কোম্পানির প্যাকেজ ভালো লেগে থাকে কিন্তু দেখা গেল প্যাকেজ এর সাথে যে পরিমান ব্যান্ডউইথ অফার করেছে সেই পরিমান ব্যান্ডউইথ দিয়ে আপনার সম্পূর্ণ মাস চলবে না।তখন কি করবেন?তখন আপনার উচিত হবে সেই কোম্পানির সেলস ডিপার্টমেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত আলাপ করে কাস্টম হোস্টিং প্যাকেজ তৈরি করে নেওয়া।এতে করে আপনার মাসের অর্ধেক সময়ে আপনার ওয়েবসাইট ব্যান্ডউইথ এর কারনে ডাউন হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকবে না।এবার চলুন আমরা জানি একজন ওয়েবসাইট ব্যাবহারকারী কি পরিমান ব্যান্ডউইথ ব্যাবহার করে থাকে।(আগেই বলে নিচ্ছি এখানে যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে এই হিসাব শুধু মাত্র আপনাকে বুঝানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে)।

ধরাযাক, আপনার ওয়েবসাইটে ১০ টি পেজ আছে এবং প্রতিটা ওয়েব পেজ এর সাইজ ১৫০ কিলো বাইট।এখন মনে করেন আপনার ওয়েবসাইট এর ভিসিতর প্রতিদিন ২০০ জন এবং তাঁরা গড়ে ৭ টি পেজ ভিউ করে।তাহলে আপনার ব্যান্ডউইথ এর প্রয়োজন পড়বে ২০০ জন ভিসিটর×৭ টি করে গড় ওয়েব পেজ ভিউ×১৫০ কিলো বাইট=২১০০০০ কিলো বাইট অর্থাৎ ২০৫.০৮ এমবি।তাহলে মাসে প্রয়োজন ২০৫.০৮ এমবি×৩০ দিন= ৬১৫২.৪ এমবি।কিন্তু যেহেতু আপনি ওয়েবসাইট শুরু করার পর প্রতিনিয়ত না আপডেট করবেন এবং আপনার ওয়েবসাইট এর ভিসিটর বাড়বে সেই হিসাবে আপনার এই হিসাবের চাইতে বেশী পরিমান ব্যান্ডউইথ এর হোস্টিং প্যাকেজ নিতে হবে।

উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আলোচিত বিষয় গুলো লক্ষ্য রেখে হোস্টিং প্যাকেজ ক্রয় করলে কখনই আপনার ওয়েবসাইট ব্যান্ডউইথ এর কারনে ডাউন হবে না।এই লেখা আপনার কতটুকু উপকারে লেগেছে তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.