বেঁচে থেকেও মৃত আব্দুল আওয়াল,৯ বছর ধরে ঘুরছেন নিজেকে জীবিত প্রমান করতে

নিউজ ডেস্কঃ নাম তাঁর আব্দুল আওায়াল,বেঁচে থেকেও আজকে মৃত! আব্দুল আওায়াল মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।বাড়ি মদন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে।বর্তমানে আব্দুল আওায়াল মদন উপজেলার করোনা বিষয়ক কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্তে আছেন।

মূল ঘটনা হল ২০১২ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদে ভুল্ক্রমে আব্দুল আওায়ালকে মৃত হিসাবে উল্লেখ করা হয়।আর এই কারনে সরকারী চাকুরী এবং সরকারী সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত আব্দুল আওায়াল।এমন কি এই একটি ভুল এর কারনে আব্দুল আওায়াল করোনা ভাইরাসের টিকা পর্যন্ত নিতে পারেননই।আজকে প্রায় ৯ বছর ধরে সরকারী দফতরে ঘুরেও নিজেকে জীবিত প্রমান করতে পারেনি নিজেকে।

আব্দুল আওায়াল আমাদের এই প্রতিনিধির কাছে আক্ষেপ করে বলেন, আজকে নয় বছর ধরে নিজেকে জীবিত প্রমান করার জন্য আমাদের উপজেলার নির্বাচন অফিসে ঘুরছি।উপজেলার নির্বাচন অফিসাররা আমাকে আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত আমি জীবিত হতে পারলাম না!জানিনা আর কখনও জীবিত হতে পারব কিনা।এসময় তিনি আরও বলেন ২০১৪ সালে আমাদের পৌরসভার মেয়রের কাছে থেকে আমি জীবিত আছি এই মর্মে একটি প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে কোন রকমভাবে আমার সাধারণ কাজ কর্ম সারছি।

এসময় আব্দুল আওায়াল বলেন, এই একটি ভুলের কারনে আমি কোন ধরনের চাকুরীতে আবেদন করতে পারছি না।সরকারী চাকুরীর বয়স শেষ হয়েছে।আমার বাড়ির দলিল পত্র খারিজ করা একান্ত প্রয়োজন,কিন্তু এই ভুলের কারনে সেটা করতে পারছি না।আজকে আমি সমাজের কাছে জীবিত থাকলেও কাগজে কলমে আসলে আমি একজন মৃত মানুষ।

এসময় আব্দুল আওায়াল বলেন, কেন আমাকে ভোটার তালিকা থেকে করতন করে মৃত মানুষ বানিয়ে দেওয়া হল?এই বিষয়ে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার সমস্যার সমাধানের আবেদন করছি।

এই ব্যাপারে মদন উপজেলার নির্বাচন অফিসার মো. হামিদ ইকবালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, গত ২০১২ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদে ভুল্ক্রমে আব্দুল আওায়ালকে মৃত হিসাবে উল্লেখ করা হয়।বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক।আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি।বিষয়টি নিয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের হেড অফিসে কথা বলব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.