কেন একটা এফ কমার্স বিজনেস ফেইল করে- কিছু প্রধান কারন

সব ফেসবুক পেজ একরকম না, সেটা আপনি ফেসবুকের ১০-১২ টা পেজ ঘুরে দেখলেই বুঝতে পারবেন। আর এটা খুব সহজও না যে আপনি কুব সহজেই আপনার পেজকে একজনের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবেন এবং আপনার পেজ থেকে কেউ প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস কিনবে। তাই এটা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে কোন সব Elements দিয়ে আপনি আপনার পেজকে আকর্ষণীয় করবেন তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এটা জানা কেন একটা ফেসবুক বিজনেস পেজ ফেইল করে। চলুন জানা যাক।

১। আপনি রেগুলার পোস্ট করেন না

ধারাবাহিকতা হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং এর ভিত্তি( শুধু ফেসবুক মার্কেটিং না সব মার্কেটিং এর ই)। আপনার পেজের ফলোয়াররা একবার যদি আপনার পেজের কন্টেন্ট পছন্দ করে ফেলে তাহলে তারা নিয়মিত ভাবে আপনার পোস্ট দেখতে চাইবে তাদের নিউজফিডে। আর আপনি যদি সপ্তাহে একটা অথবা দুইটা পোস্ট দেন তাহলে আপনার ফলোয়াররা হতাশ হবে এটা বলাই যায়। তাই চেস্টা করতে হবে প্রতিদিন অন্তত ১ টি হলেও পোস্ট আপনার পেজে দেয়ার জন্য।

২। আপনার পেজে মানুষের ছোঁয়ার অভাব

এফ কমার্স বিজনেস ফেইল করার আরেকটা প্রধান কারন হলো ফেসবুকের পোস্টে মানুষের থেকে প্রোডাক্টের প্রতি বেশি ফোকাস করা হয় এবং সম্পূর্ণ ভাবে মানুষের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সেল, ডিস্কাউন্ট, অফার ছাড়া সেই সব পেজে আর কিচু দেখতে পাওয়া যায় না। এটা একজন ক্রেতার জানা খুব জরুরি যে কেন সে আপনার কাছ থেকে কোন কিছু কিনবে অথবা সার্ভিস কেন নিবে, সেগুলি জানানো হচ্ছে না, পেজ ওপেন করার দিন থেকেই প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের অফার দিয়ে পোস্ট করা শুরু হচ্ছে। এটা মনে রাখতে হবে ফেসবুক একটা সোশ্যাল মিডিয়া, কোন পোস্টার অথবা লিফলেট না, তাই এখানে আপনার আচরণও হতে হবে সোশ্যাল।
যেখানে সব কিছু প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয় সেখানে একটা ব্র্যান্ড গড়ে উঠে মানুষের ভালোবাসা আর হৃদয় থেকে আর সেটাই প্রকৃতভাবে দীর্ঘদিন টিকে থাকে, কারন তাদের ভিত্তি অনেক শক্তিশালি কারন এটা র মার্কেটিং মানুষ নিজেই করেছে কোন অ্যাড ক্যাম্পেইন করার আগেই।

৩। আপনি আপনার কন্টেন্টে 3-Geared Approach ব্যবহার করছেন না

কন্টেন্ট মার্কেটিং( ফেসবুক মার্কেটিং করার একটা উপাদান) খুবই পাওারফুল একটা টুলস মানসম্মত ট্র্যাফিক এবং লিড জেনারেশনের ক্ষেত্রে। এটা খুব জনপ্রিয় একটা কথা ” Content is king”। চ্যালেঞ্জ টা হচ্ছে কন্টেন্ট হতে হবে মানসম্মত, অরিজিনাল এবং রেগুলার বেসিস এবং এটা আপনার অব ধরনের ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে হবে।
উদ্যোক্তাদের কথা চিন্তা করে ২০১৬ থেকে লিখে আশা ফেসবুক মার্কেটিং এর উপর “ফেসবুক মার্কেটিং” নামে আমার একটা বই আছে বাজারে, নিতে আগ্রহী হলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন।

3-Geared Approach টা কি?

Entertain- ফেসবুকে মানুষ কোন কিছু কেনার লক্ষ্য নিয়ে ঘুরে বেড়ায় না, ঘুরতে ঘুরতে কিছু ভালো লেগে গেলে সিধান্ত নেয় কিনবে কি কিনবে না। তাই সবার আগে আপনার ক্রেতাকে আকৃষ্ট করা জরুরি, সেটা সেল পোস্ট দিয়ে না, বিভিন্ন রকমভাবে Entertain করে, আর যারা এটা পারছে না তারা ফেইল করছে।

Educate- কেউ কোন কিছু কেনার আগে জিনিসটা সম্পর্কে জানতে চায়, তার মনে বিভিন্ন প্রশ্ন আসে, তাই কোন প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসে অফার করার আগে সেই প্রশ্নগুলার উত্তর দেন, প্রোডাক্ট সার্ভিস সম্পর্কে মানুষকে জানান বিভিন্নভাবে।

Excite- ফেসবুক পোস্টে আপনাকে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসের উপর বিভিন্ন অফার, ডিস্কাউন্ট দিতে হবে, এটাকে Exciting content বলা হয়ে থাকে। আপনি নিজেই পরীক্ষা করে দেখবেন একই প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস অফার ছাড়া আর অফার সহ, দুইটা পোস্ট পেজে দিয়ে, কোনটাতে ভালো সাড়া পাওয়া যায়।

৪। আপনার পোস্ট দেখতে অরিজিনাল দেখায় না, অথবা আপনি নকল পোস্ট দেন

প্রতিটা ব্র্যান্ডের আলাদা ব্যক্তিত্ব, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি থাকে যা কিনা তাদের কে অন্যদের থেকে আলাদা করে, মানুষ এগুলির মাধ্যমেই তাদেরকে চিনতে পারে। যে সব ব্র্যান্ড তারা যা সেটাই প্রকাশ করে এবং তারা কিভাবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে চায় সেটা সঠিক ভাবে জানাতে পারে, মানুষ তাদের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়।

একটা কন্টেন্ট যেটা যেখানে সেখানে পাওয়া যায় সেটা আপনার পেজে দেয়া মানে আপনি আপনার নিজস্বতা হারালেন আর এটা তখনই ঘটে যখন কোন কোম্পানি কোন রকম গাইডলাইন ছাড়াই বাইরের কোন মিডিয়াকে তাদের পেজ চালানোর দায়িত্ব দেয়, কন্টেন্ট বানানোর দায়িত্ব দেয় এবং সেগুলা পোস্ট করারও অনুমতি দেয়। একটা কোম্পানি অবশ্যই অন্যদের থেকে কাজ করাবে কিন্তু সেটা হতে হবে সেই কোম্পানির মত করে, বাইরের একজন মানুষ আপনার নিজের থেকে ভালো বুঝবে না।

৫। আপনি সম্পূর্ণ ভাবে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স জানেন না

আপনার ক্লায়েন্ট কারা সেটা না জেনে কন্টেন্ট বানানোর প্ল্যানিং করা একটা বড় ধরনের ভুল মার্কেটিং এ, আপনার মূল ক্লায়েন্ট ২০-৩৫ আপনি প্ল্যান করলেন ৪০-৫৫ বয়সের মানুষের জন্য কন্টেন্ট বানাতে, এটা একটা উদাহারন মাত্র, আপনার টার্গেট অডিয়েন্স বুঝার জন্য বয়স দিয়ে শুরু করতে হবে এরপর আসবে, তারা কোন এলাকায় থাকে, তাদের পারিবারিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তারা কোথায় পড়াশুনা করতে পারে অথবা জব, হতে পারে তারা বিজনেস করে ইত্যাদি, আপনাকে তাদের লাইফ স্টাইল সম্পর্কে একটা আইডিয়া রাখতে হবে, না হলে আপনি কন্টেন্টে এবং অ্যাড টার্গেটিং এ হোঁচট খাবেন। এভাবে আপনি চিনলেন আপনার কাস্টোমার কারা।এরপর আপনাকে চিন্তা করতে হবে তারা কি কিনতে চায়, কি তাদের প্রবলেম, কি ধরনের সমাধান তারা চায়, সেটার পিছনে তারা কতটুকু অর্থ খরচ করতে পারবে।এইসব কিছু এনালাইস করে আপনাকে কন্টেন্ট ট্রেটেজি ঠিক করতে হবে, এবং সে অনুযায়ী আপনার ফেসবুক পেজে পোস্ট করতে হবে।

৬। আপনি আপনার পেজের কমেন্ট এবং ম্যাসেজ ইগনোর করে যান

ফেসবুক একটা যোগাযোগের মাধ্যম ঠিক অনেকটা ইমেইল অথবা ফোনের মত, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কাস্টোমার কেয়ার সার্ভিস দেয়া গেম চেঞ্জারের মত কাজ করে, কিন্তু আপনি যদি এটা ঠিক মত মনিটর না করেন, ম্যাসেজের উত্তর সময় মত না দেন আপনার বিজনেস হুমকির মধ্যে পড়ে যাবে।

এটা মানুষের সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার, আপনি কাউকে ইগনোর করলে তার সেটা ভালো লাগবে না, সে যে ম্যাসেজ দিয়েছে হতে পারে আপনার কাছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে না হবার কারনে উত্তর দিলেন না তবে উত্তরটা না পেয়ে সে অপমানিতবোধ করবে। হতে পারে সে আজকে গুরুত্বহীন ম্যাসেজ দিয়েছে কিন্তু কাল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ দিতে পারে। আর আপনি যদি কম্পিটিটিভ সুবিধা নিতে চান তাহলে অন্যকেউ তার “গুরুত্বহীন” ম্যাসেজের উত্তর দিয়ে তার মন জয় করার আগেই আপনি তার মন জয় করেন।

৭। আপনি ফেসবুক অ্যাডের পাওয়ার ঠিক মত ব্যবহার করতে পারছেন না

ফেসবুক মার্কেটে অন্যতম শক্তিশালি প্লাটফর্ম কারন তাদের অ্যাড সিস্টেম। একটা বিজনেস পেইজ ফেইল করে কারন হয় তারা ঠিক মত অ্যাড দিতে জানেন না অথবা একদম ই অ্যাড দেয় না।ফেসবুক পেইজে আপনি অনেক অরগানিক মার্কেটিং করবেন এটা যেমন সত্যি ঠিক একই ভাবে এটাও সত্যি ফেসবুক পেইড প্রমোশন ছাড়া ফেসবুকে বিজনেস করা সম্ভব নয়, কেন, কারন আপনি অ্যাড ছাড়া অনেক মানুষের কাছে আপনার বিজনেস কে পৌঁছাতে পারবেন না। তাই আপনাকে অ্যাড দিতে হবে এবং সঠিক ভাবে অ্যাড দিতে হবে। সঠিক ভাবে অ্যাড দেয়ার অর্থ

– কোন অ্যাড অবজেক্টিভে অ্যাড দিবেন সেটা আপনার বিজনেস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন
– আপনার টার্গেট অডিয়েন্স চেনা যেমন কন্টেন্ট বানানোর জন্য জরুরি ঠিক তেমন ভাবে ফেসবুক অ্যাড টার্গেটিং এর ক্ষেত্রে জরুরি
– আপনার অ্যাডের ক্রিয়েটিভ (ছবি, ভিডিও) এগুলা যেন মানসম্মত হয় এটা নিশ্চিত করা
– দুই একটা অ্যাড দিয়ে ভালো ফলাফল না পেলে হতাশ না হয়ে যাওয়া।

৮। আপনি আপনার রেজাল্ট এনালাইস করছেন না

আপনি একটা কিছুর হিসাব না রাখলে সেটা ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে যায়, এটা শুধু মার্কেটিং এ নাম জীবনের প্রায় সব জায়গাতেই হিসাব রাখাটা জরুরি। যে সব কোম্পানি তাদের রেজাল্ট রিভিউ করে না তারা বারবার ভুল করতেই থাকে আর তারা নিজেরাও জানে না যে তারা ভুল করছে এবং কি ভুল করছে।

ফেসবুক ইনসাইট, পেইজ ইনসাইট অথবা অ্যাড ম্যানাজারে যে ইনসাইট আছে যেখান থেকে অভারল ফেসবুকের ইনসাইট দেখা যায় সেটা চমৎকার একটা টুলস আপনার বিজনেসের রেজাল্ট দেখার জন্য। এটাকে আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড বানিয়ে নেন কারন এটা আপনাকে আপনার বেস্ট ফ্রেন্ডের মতই কাজ করবে। এখানে আপনি পেইড এবং অরগানিক দুইটার ই রেজাল্ট দিন ভিত্তিক, মাস, বছর নিজের মত রেঞ্জ করে দেখতে পাবেন। আর রেজাল্ট আনালাইস আপনাকে যা দিবে

– আপনি আপনার ফলোয়ারদের আরো ভালো কিছু দিতে পারবেন
– রেজাল্ট দেখে কন্টেন্ট কি ধরনের হলে ভালো সেই ব্যাপারে সিধান্ত নিতে পারবেন।
– বুঝতে পারবেন আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেন কিনা
– আপনার পরবর্তী প্লানে চমৎকারভাবে সেট করতে পারবেন।

আপনি যদি আপনার আশা অনুযায়ী ফলাফল না পান তাহলে এই লেখাটা নিয়ে আপনার পেজে যান, মিলিয়ে দেখেন কোন জায়গাগুলাতে আপনি ভুল করছেন এবং কোন জায়গাতে আপনার আরো ইম্প্রুভ করা দরকার এরপর যেখানে যেখানে কাজ করা দরকার সেখানে কাজ করুন, মনে রাখবেন ছোট একটা ভুল অনেক বড় সমস্যার কারন হতে পারে।লিখেছেনঃ Md. Ariful Islam

Leave a Comment