কি কি কারনে ফেসবুক পেজ ব্যান হয়?বিস্তারিত জেনে নিন

আপনি যেহেতু এখানে ফেসবুক বিজনেস পেজের মাধ্যমে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন, আপনাকে অবশ্যই জেনে নিতে হবে ফেসবুকের নিয়মগুলি বা গাইডলাইন। আমরা কেউ চাই না আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যান হয়ে পড়ুক। ব্যান হওয়া মানেই আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা মার্কেটিং, ব্রান্ডিং এর সব কিছু বৃথা হয়ে যাওয়া।

যে ৯ টি কারনে ফেসবুক বিজনেস পেজ ব্যান হতে পারে

আপনার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক টা দিয়ে বার বার মানুষকে ম্যাসেজ করা

আমি দেখেছি, বেশির ভাগ সময় এটা পেজ ব্যান হওয়ার অন্যতম কারন। যারা আপনার পেজে লাইক দিবে না, তাদেরকে কি আপনি জোর করে লাইক নিতে পারবেন?আগে এটা সমস্যা ছিল না, কিন্তু ফেসবুক এখন অনেক কঠোর। কারন ফেসবুক জানে, এটা কোন মার্কেটিং এর পর্যায়ে পড়ে না এবং এতে মানুষ অনেক বেশী বিরক্ত হয়।যারা এখনও নিজের পেজের লিঙ্ক অন্যদের ম্যাসেজ দিয়ে দিচ্ছেন, তারা সাবধান হয়ে যাবেন।

বেশী লিঙ্ক পোস্ট করা

ফেসবুক বিজনেস পেজের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের ব্যবসায় কাজে লাগে এমন তথ্য দেয়া। এটা হচ্ছে প্রধান উদ্দেশ্য। এটা এই জন্য যে, ফেসবুক এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ। মানে মানুষের উপকারে আসে যোগাযোগের মাধ্যেমে, এমন কিছু। আপনি যদি আপনার পেজের কোন লিঙ্ক বার বার পোস্ট করেন সেটাকে ফেসবুক দেরিতে হলেও স্প্যাম হিসেবে ধরবে। ফেসবুক লিংক কে কোন ভাবেই দেখতে চায় না, যেটা বার বার পোস্ট করা হয়।

ফেক একাউন্ট দিয়ে পেজ খোলা

কোন ভাবেই করবেন না এটা। যে আইডি দিয়ে ফেসবুক পেজ খুলবেন, সেটা ভেরিফাই করে নিবেন মোবাইল নাম্বার দিয়ে এবং ইমেইল দিয়ে তো ভেরিফাই করবেন ই। যদি আপনি কোন মার্কেটিং করার উদ্দেশ্যে ফেইক একাউন্ট খুলে এর পর সেটা দিয়ে পেজ ওপেন করেন, তাহলে ধরে নিতে পারেন যে, সেই পেজ গায়েব হবার পথে এক ধাপ পা ফেলেছে সামনের দিকে।

আপনি যদি আপনার পেজের কোন পোস্টের লিংক বার বার বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করেন, ধরে নিতে পারেন যে, এক সময় ফেসবুক আপনার এই কাজকে নেগেটিভ ভাবে দেখবে

ফেসবুক বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, ৫ টা যদি আপনি পোস্ট করেন, এর ভেতর ১০ থেকে ২০% এর মধ্যে আপনি সেল পোস্ট বা মার্কেটিং পোস্ট দিতে পারবেন। মানে ১০ টা পোস্টের ভেতর ১ টা ২ টা পর্যন্ত আপনি সেলস পোস্ট দিতে পারবেন। এর বেশী কোন ভাবেই ভালো হবে না। কারন আপনি ফেসবুক বিজনেস পেজের যে উদ্দেশ্য, একটা সম্পর্ক করা, সামাজিক যোগাযোগ রাখা, তথ্য শেয়ার করা, সেটা করছেন না।

ফেসবুক পেজ সংক্রান্ত গাইডলাইন না মানলে

ফেসবুকের কিছু গাইডলাইন আছে নিজস্ব। আপনি লাইক কমেন্ট পাবার জন্য অবৈধ ভাবে কিছু করতে পারবেন না। আপনি ধরেন কাউকে টাকা দিলেন লাইক এবং কমেন্ট পাবার জন্য। এটা করবেন না।তারপরে আরেকটা যে বিষয়, অনেকে কন্টেস্ট বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন পেজে।এখানে আপনি যদি করতে চান, ফেসবুকের থার্ড পার্টি কিছু অ্যাপ আছে, সেগুলি দিয়ে করবেন। কখনো কোন ভাবেই সরাসরি পেজের টাইমলাইনের কোন ছবি, ভিডিও দিয়ে কোন কন্টেস্ট করবেন না।

অন্য কোন পেজে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় কমেন্ট করা কিংবা কাউকে হেয় করে এমন কমেন্ট করা।

এই বিষয়ে জানা টা দরকার। কারো কোন পোস্ট আপনার ভালো নাই লাগতে পারে। সেটা আপনি ভালো ভাবে বুঝিয়ে কমেন্ট করতে পারেন। কিন্তু যদি এমন হয় যে, আপনি এমন কমেন্ট করছেন, যেটা কারো কাছেই মুল্যবান মনে হচ্ছে না, কিংবা আপনার কমেন্ট কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে করা হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই পেজের উপর ফেসবুকের নেতিবাচক নজর পড়বে। এটাই স্বাভাবিক।

কপি পেস্ট করা কনটেন্ট বার বার দেয়া

এই বিষয়ে কারো ভেতরেই কোন রকম সন্দেহ নেই যে, এটা বেআইনি। আপনি কপি করতেই পারেন, সেইক্ষেত্রে আপনি লেখকের ক্রেডিট দিন নিচে। ক্রেডিট দিলে সমস্যা নেই। সমস্যা হয় সেই সময়, যখন আপনি আপনার একাধিক পেজে একই সাথে সেই একই পোস্ট কপি করে বার বার যদি পাবলিশ করেন। তখন সমস্যা টা হয়। এটা সাথে সাথে ফেসবুক স্প্যাম বলে ধরে নেয়। এটা করা যাবে না কোন ভাবে।

লাইক কমেন্ট বা ট্যাগ করলে উপহার দিবেন, এমন কিছু দিয়ে প্রোমোশন চালালে

আপনি যদি বিজ্ঞাপন দেন এভাবে যে, একটা লাইক করুন এবং জিতে নিন অই উপহার, কিংবা একটা কমেন্ট করুন এবং জিতে নিন সেই উপহার, অমুককে ট্যাগ করুন এবং জিতে নিতে পারেন আরও উপহার, এই গুলি করা যাবে না। সরাসরি স্প্যাম এইসব বিষয়। প্রথমে ফেসবুক ব্যান করবে না, কিন্তু আপনার স্কোর কমে যাবে এবং এক সময় কোন অয়ার্নিং ছাড়াই ব্যান করে দিবে পেজ।

ঘন ঘন Invite Friends বাটন দিয়ে পেজে লাইক দেয়ার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠানো

এটা একটা কারন। এখানে আপনি একবারেই সবাইকে ইনভাইট করতে পারেন। কিন্তু বার বার যদি ইনভাইটেশন পাঠান, সেটা আপনার লিস্টের যারা আছে, তারা তো বিরক্ত হবেই, সাথে সাথে ফেসবুকের কাছেও রিপোর্ট চলে যাবে।

আর্টিকেলটির মূল লেখকঃ Md Mustafizur Rahman Khan(জনি)

Leave a Comment