আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য হোস্টিং নিতে চান?হোস্টিং নেওয়ার আগে এই লেখা পড়ুন

অনলাইনে যেকোনো তথ্য কোন একটি নির্দিষ্ট ভার্চুয়াল কম্পিউটারে সাজিয়ে রাখা এবং এটা যেকোনো মুহূর্তে যে কোন জায়গা থেকে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আক্সেস করা গেলে তাঁকে ওয়েবসাইট বলে।আর এই ওয়েবসাইট এর ডাটা যে ভার্চুয়াল কম্পিউটার/সার্ভারে রাখা হয় তাঁকে হোস্টিং বলা হয়।আপনি যদি নতুন ওয়েবসাইট চালু করতে চান তাহলে প্রথমে আপনাকে যে কাজ করতে হবে তা হল,ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হবে এরপর আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন করে ইউজার দের ব্যাবহার করার উপযোগী করে তুলতে হবে।আজকে আমরা জানবো হোস্টিং কেনার আগে আমাদের কোন কোন বিষয় গুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে অর্থাৎ,কোন ধরনের হোস্টিং আমাদের ওয়েবসাইট এর জন্য উপযোগী হবে এই সম্পর্কে জেনে নিব।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে প্রথমে আমাদের একটি ডোমেইন নাম কিনতে হবে।আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তা আগে থেকেই নির্বাচন করতে হবে এই সম্পর্কিত একটি সুন্দর ডোমেইন নাম খুঁজে বের করতে হবে।আপনার পছন্দ করা ডোমেইন নাম যদি আভাইলেবল থাকে তাহলে আপনার উচিত হবে দ্রুত সেই ডোমেইন নাম কিনে নেওয়া।ডোমেইন নাম কেনার সময় অবশ্যই সব চাইতে সহজ এবং মনে রাকা সহজ এমন নাম সিলেক্ট করা উচিত।ডোমেইন কেনার পর আপনাকে আপনার ডোমেইনটি অ্যাড করার জন্য হোস্টিং নির্বাচন করতে হবে এবং হোস্টিং কিনে নিতে হবে।হোস্টিং কেনার আগে যে বিষয় গুলো মাথায় রাখতে হবে তা নিচে আলোচনা করছি।

প্রথমেই আপনাকে আপনার হোস্টিং এর জন্য একটি প্রাথমিক বাজেট নির্ধারণ করতে হবে।কারন আপনার সাইট এর প্রতিদিনের ভিসিটর কত,আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট করতে চান,আপনার ওয়েবসাইট এর মূল লক্ষ্য কি এসব এর নির্ভর করে আপনার একটি বাজেট করতে হবে আসলে আপনি কত টাকার মধ্যে হোস্টিং কিনতে চাচ্ছেন।আপনার বাজেট অসুসারে এবার বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানির প্যাকেজ গুলো দেখা শুরু করে দিন এবং আপনার বাজেট এর সাথে মানানসই একটি পাকজ নির্বাচন করুন।

আপনি হোস্টিং এর জন্য প্যাকেজ নির্বাচন করেছেন,প্যাকেজ নির্বাচন করার সময় আপনার কতটুকু হোস্টিং স্পেস লাগবে তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।সাধারণত হোস্টিং কম্পনাই গুলো ১ জিবি থেকে ১০০ জিবি পর্যন্ত হোস্টিং স্পেস অফার করে থাকে।এসব প্যাকেজ থেকে আপনার প্রয়োজনীয় প্যাকেজটি নির্বাচন করে নিতে হবে আগে থেকেই।

আপনার সাইটে কি পরিমান ভিসিটর প্রতিদিন আসবে কত ওয়েবপেজ প্রতিদিন দেখা হবে এবং আপনার ওয়েবপেজ এর ফিজিকাল সাইজ কত তার উপর নির্ভর করে আপনার ব্যান্ডউইথ খরচ হবে।এখানে আইডিয়া করে আপনাকে একটা হিসাব করতে হবে এবং সেই অনুসারে ব্যান্ডউইথ কিনতে হবে।যদিও এই হিসাব করা একেবারেই অসম্ভব তবুও আমাদের একটি প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।এর পর এক মাস ব্যাবহার করার পর আপনি বুঝতে পারবেন কি পরিমান ব্যান্ডউইথ আপনার প্রতি মাসে প্রয়োজন হবে।যদি আপনার ব্যান্ডউইথ কম হয় তাহলে হোস্টিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে আপনাকে ব্যান্ডউইথ এর পরিমান বাড়িয়ে নিতে হবে।

প্রায় সকল হোস্টিং কোম্পানি ৩০ দিনের টাকা ফেরত এর গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।এই গ্যারান্টির শর্ত গুলো আপনাকে জেনেনিতে হবে।যে কি কি সমস্যা হলে আপনি তাদের কাছে টাকা ফেরত চাইতে পারবেন আর তারাও দিতে বাধ্য থাকবে।এবং হোস্টিং কেনার আগে আপনার উচিত সেই হোস্টিং কোম্পানির বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া।তাদের সার্ভিস সম্পর্কে খবর নেওয়া।তাদের সাপোর্ট সম্পর্কে জেনে নেওয়া।

প্রত্যেক হোস্টিং প্যাকেজ এর একটি লিমিট থাকে।আপনি যদি কোন ছোট হোস্টিং প্যাকেজ কিনে থাকেন তাহলে সেই হোস্টিং প্যাকেজ এর বর্ণনা তে সম লিমিট উল্লেখ করা থাকবে।কিন্তু আপনি যদি কোন আনলিমিটেড হোস্টিং প্যাকেজ ক্রয় করেন তাহলে সব কিছু আনলিমিটেড থাকবে।কিন্তু বলে রাখা ভালো পৃথিবীতে আনলিমিটেড বলতে কিছু নাই প্রত্যেক আনলিমিটেড এরও একটি লিমিট আছে।তাই এই বিষয়ে আপনাকে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

আপনি যে হোস্টিং নিবেন সেটি কত দ্রুত লোড হবে এটা আপনাকে জেনে নিতে হবে।এই ক্ষেত্রে আপনি সেই হোস্টিং এ অ্যাড করা অন্য সাইট গুলো ভিসিট করে দেখে নিতে পারেন তাদের হোস্টিং এর লোড স্পিড কতটা ভালো অথবা খারাপ।এই বিষয়গুলোর প্রতি নজর রেখে হোস্টিং সেবা গ্রহন করলে হোস্টিং জনিত অনেক সমস্যা থেকে আপনার ওয়েবসাইট মুক্ত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *