ট্রাভেল ব্লগ এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করার কিছু সেরা উপায়

আপনি কি ভ্রমন করতে পছন্দ করেন?কেমন হবে যে আপনি ভ্রমন ও করবেন আবার এর বিনিময়ে অর্থ উপার্জনও করবেন?আপনি হয়ত এই বিষয়টা জানলে অবাক হবেন যে বিশ্বব্যাপি এমন অনেক মানুষ আছে যারা এই ভ্রমন করাকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন এবং এটার মাধ্যমে তারা খুব ভালো পরিমান আয় করে থাকেন!এবং তাদের একমাত্র কাজই হল সারা বছর পৃথিবীর বিভন্ন আকর্ষণীয় জায়গা গুলোতে ঘুরে বেড়ানো।

এখন আপনার যদি ভ্রমন করতে ভালো লাগে এবং আপনি যদি চান যে আপনি ভ্রমন ও করতে চান আবার এই ভ্রমন করার মাধ্যমে কিছু টাকা ও আয় করতে চান,তাহলে ট্র্যাভেল ব্লজ্ঞিং হতে পারে আপনার অর্থ উপার্জন এর  সেরা উপায়।তবে শুরু করার আগে এই বিষয়ে আপনাকে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে।একজন ট্র্যাভেল ব্লগার কিভাবে আয় করে সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য আপনার জানা থাকতে হবে।কারন আপনি কিছু না জেনে কোন কাজ শুরু করলে কখনও ই সফল হতে পারবেন না।আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে ট্র্যাভেল ব্লগিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

আপনি আরও একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন,কোন কোম্পানির ট্যুর গাইড হিসাবে চাকুরী নিতে পারেন।ট্যুর গাইড হিসাবে কাজ করলে আপনার অবেক অভিজ্ঞতা হবে ভ্রমন এবং ভ্রমন এর জায়গা গুলো সম্পর্কে আর এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই আপনি পরবর্তীতে আপনার ট্র্যাভেল ব্লগ শুরু করতে পারবেন।

আপনি হয়ত এর আগে ট্র্যাভেল বিসয়ক অনেক চাকুরী এর কথা শুনে থাকবেন এবং ট্র্যাভেল ব্লগিং শব্দটা আপনার এবং অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে।তাই ট্র্যাভেল ব্লগিং শুরু করার আগে যে প্রশ্ন গুলো আপনার মনে আসে তার মধ্য সব চাইতে কমন প্রশ্ন হল, আমি ট্র্যাভেল ব্লগিং করে প্রতি মাসে কত টাকা আয় করতে পারব?এই প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ,আপনি ঠিক কতটা পরিশ্রম করবেন তার উপর নির্ভর করছে আপনার আয়।

আপনি যত পরিশ্রম করবেন আপনার আয় ঠিক তেমনই হবে।তবে একজন সাধারণ ট্র্যাভেল ব্লগার কমপক্ষে ১০০০-৫০০০ ডলার আয় করে থাকে।ট্র্যাভেল ব্লগাররা তাদের ট্র্যাভেল ব্লগ থেকে যে মাধ্যম গুলো থেকে আয় করে থাকে তার মধ্য প্রধান মাধ্যম গুলো হলঃ গুগল অ্যাডসেন্স,অ্যাফিলিয়েট পার্টনারশীপ,প্রেস ট্রিপ,স্পন্সরড ক্যাম্পেইন এবং ফ্রিল্যান্স রাইটিং।এখন আমরা জানব কিভাবে একজন ট্র্যাভেল ব্লজ্ঞার এই মাধ্যম গুলো ব্যাবহার করে তাদের ইনকাম জেনারেট করে।

  • গুগল অ্যাডসেন্সঃ গুগল এর অ্যাডসেন্স নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই,কারন আপনি হয়ত এখন পর্যন্ত এমন অনেক আর্টিকেল অনলাইনে পড়েছেন যারা গুগল এর অ্যাডসেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।এরপরেও যদি আপনি গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে না জানেন তাহলে “গুগল অ্যাডসেন্স” এটা লিখে গুগলে সার্চ করুন অনেক আর্টিকেল পেয়ে যাবেন।আর ট্র্যাভেল ব্লগাররা তাদের ওয়েবসাইট এর ভিসিটর দের গুগল এর অ্যাড প্রদর্শন করে প্রচুর পরিমানে আয় করে থাকে।আপনি যদি ভালো ইনফরমেশন সবার সাথে শেয়ার করেন তাহলে শুধু বিজ্ঞাপন দেখিয়েও অনেক আয় করতে পারবেন।
  • অ্যাফিলিয়েট পার্টনারশীপঃ আপনি হয়ত অনেকবার অ্যামাজন এর নাম শুনেছেন এবং অনেককে হয়ত বলতে শুনেছেন যে তিনি অ্যামাজন এর অ্যাফিলিয়েট পার্টনারশীপে কাজ করেন।এই বিষয়টাও অ্যামাজনের মত।যারা কখনও ভ্রমন করেন নি তারা জানতে চায় যে ভ্রমন এর সময় কি কি জিনিস-পত্র সাথে রাখতে হয়।তারা এই ইনফরমেশন গুলো পড়তে একজন ট্র্যাভেল ব্লগার এর ওয়েবসাইটে আসে।তখন একজন ট্র্যাভেল ব্লগার তাদের সাথে এই টিপস গুলো শেয়ার করে এবং কোন প্রোডাক্ট গুলো ভালো এবং কথায় এই জিনিস-পত্র কিনতে পাওয়া যায় তা তাঁর লেখার ভেতর লিংক আকারে দিয়ে দেয়।যখন কেউ উক্ত লিঙ্কে ক্লিক করে কোন প্রোডাক্ট কিনে তখন সেই ট্র্যাভেল ব্লগার সেখান হতে কিছু পরিমান কমিশন লাভ করে।
  • প্রেস ট্রিপঃ এই পদ্ধতিটি যেকোনো ট্র্যাভেল ব্লগার এর কাছে সব চাইতে আকর্ষণীয়।যখন কোন ট্র্যাভেল ব্লগার খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে তখন বিভিন্ন হোটেল, ট্যুরিজম কোম্পানি তাদের কোন প্লেস সম্পর্কে তাদের ব্লগে লিখতে বলে।আর এই লেখার জন্য কোম্পানি গুলো তাদের অর্থ প্রদান করে।এই পদ্ধতিতে হোটেল, ট্যুরিজম কোম্পানি গুলো ট্র্যাভেল ব্লগারদের প্রায় ২০০০ ডলার পর্যন্ত সম্মানি প্রদান করে থাকে।
  • স্পন্সরড ক্যাম্পেইনঃ এটা অনেকটা বিজ্ঞাপন দেওয়ার মতই।ধরে নিলাম আমি ট্র্যাভেল ব্লগিং করে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছি।এমন সময় অনেক কোম্পানি তাদের কোম্পানির প্রোডাক্ট অথবা সেবা সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য আপনার ওয়েবসাইটে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দিবে।আপনাকে সেই প্রোডাক্ট অথবা সেবা সম্পর্কে মানুষদের জানাতে হবে।তবে একজন ভালো ব্লগার কখনও যে সে প্রোডাক্ট অথবা সেবা সম্পর্কে বিজ্ঞাপন তাঁর ওয়েবসাইটে দেয় না।সে উক্ত প্রোডাক্ট অথবা সেবা সম্পর্কে যাচায় করে এরপর সেই বিজ্ঞাপন এর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।কারন সেবা অথবা প্রোডাক্ট এর মান যদি ভালো না হয় সেই ক্ষেত্রে সে হয়ত কিছু অর্থ আয় করবে কিন্তু সে তাঁর ভিসিটরদের কাছে বিসসস্থতা হারাবে।যা খুব খারাপ ফল বয়ে আনবে।
  • ফ্রিল্যান্স রাইটিংঃ আপনি যদি একজন ট্র্যাভেল ব্লগার হন তাহলে আপনার লেখা শুধু আপনার ওয়েবসাইটেই সীমাবদ্ধ না।মাঝে মাঝে নিজের পাণ্ডিত্য প্রকাশ করার জন্য অন্যান্য ট্র্যাভেল সম্পর্কিত ব্লগে নিজের লেখা প্রকাশ করতে হয়।তবে এখানে সব চাইতে মজার ব্যপার হল তাদের এই কাজ ফ্রী তে করতে হয় না।সেই ওয়েবসাইট গুলোতে তাদের লেখা প্রকাশ করার বিনিময়ে তারা ভালো পরিমান টাকা পেয়ে থাকে।এছারও সেই লেখা গুলোতে বিভিন্ন জায়াগায় রেফারেন্স হিসাবে আপনার ওয়েবসাইট এর লিংক দিয়ে দিতে পারবেন,যা আপনার ট্র্যাভেল ওয়েবসাইট এর ব্যাকলিংক হিসাবে কাজ করবে।

তথ্য সুত্রঃ ইন্টারনেট

Leave a Comment