আপনি জানেন কি স্মার্ট টিভি কেন জনপ্রিয়?কেন আপনার স্মার্ট টিভি কেনা উচিত?

টিভির কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই চিরিচেনা কালো বাক্স সামনে একটি কাঁচ,কয়েকটা ভলিউম বাটন আর চ্যানেল পরিবর্তন করার জন্য একটু বড় চাকা।কিন্তু বর্তমান সময়ে এই কালো বাক্সর জায়গা দখল করে নিয়েছে স্মার্ট টিভি।উন্নত দেশে সেই পুরাতন মডেল এর টিভি আর ব্যাবহার করা হয় না বললেই চলে।কারন স্মার্ট টিভির রয়েছে একাধিক সুবিধা।আজকে আমরা এই আর্টিকেলে জানবো কেন আমাদের স্মার্ট টিভি কেনা উচিত।আর কেন উন্নত দেশগুলোতে স্মার্টটিভি এত জনপ্রিয়।চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

স্মার্ট টিভিতে রয়েছে অনেক ফিচার।আর এই ফিচার এর জন্যই স্মার্ট টিভি এত জনপ্রিয়।যারা স্মার্ট টিভির এই ফিচার সম্পর্কে অবগত আছেন তাঁরা ইতিমধ্যে স্মার্ট টিভি কিনেছেন।কিন্তু আমাদের ভেতর অনেক আছেন যারা স্মার্ট টিভি এর এই জনপ্রিয় ফিচার সম্পর্কে অবগত নয়।আর অবগত না থাকার কারনে তাঁরা এখন সেই পুরানো মডেলের টিভিই ব্যাবহার করছেন।

স্মার্ট টিভির ফিচার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই যে কথা আসে তা হল,স্মার্ট টিভির ছবির গুনগত মান।কারন অন্য যেকোনো ধরনের টিভির চাইতে স্মার্ট টিভির পিকচার কোয়ালিটি অনেক উন্নত।অন্য যে কোন টিভি ব্যাবহারকারীর চাইতে স্মার্ট টিভি বেবহারকারি উন্নত মানের ছবি দেখেন এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।আর এই কারনেই আপনার স্মার্ট টিভি কেনা উচিত।

স্মার্ট টিভিকে আপনি ইন্টারনেট ের সাথে যুক্ত করতে পারেন।অন্য ডিভাইস এর মতও স্মার্ট টিভিকে আপনার বার বার ইন্টারনেট এর সাথে যুক্ত করতে হয় না।স্মার্ট টিভিকে ইন্টারনেট এর সাথে যুক্ত করতে ওয়াই-ফাই এর প্রয়োজন পরে।আর অবশ্যই ওয়াই-ফাই এর রেঞ্জ এর ভেতর আপনার স্মার্ট টিভিকে রাখতে হয় (যে জায়াগায় স্মার্ট টিভি রাখবেন সেখানেই রাকাহার প্রয়োজন নেই,শুধু রেঞ্জ এর ভেতর থাকলেই হল) আপনার স্মার্ট টিভি যদি ওয়াই-ফাই এর রেঞ্জ এর বাহিরে হয় সেই ক্ষেত্রে কানেকশন দুর্বল হয়।ফলে আপনার স্মার্ট টিভি ঠিকভাবে ভিডিও স্ট্রিমিং করতে পারে না।যা একজন স্মার্ট টিভির দর্শক এর জন্য একেবারেই বিরক্তিকর ব্যাপার।

স্মার্ট টিভি দেখতে অন্যান্য যে কোন টিভি এর চাইতে কয়েক গুন সুন্দর এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।এটা দেখতে একদম স্লিম এবং আকর্ষণীয়।স্মার্ট টিভি মূলত পাতলা মেটাল ফেব্রিক্স আর কাঁচ দ্বারা তৈরি করা হয়।স্মার্ট টিভিকে মিনিমালিস্ট করা হয়।যা দেখতে অনেক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।এইদিক লক্ষ্য করে হলেও আপনার একটি স্মার্ট টিভি কেনা উচিত।

আপনি চাইলেই আপনার স্মার্ট ফোনের মত অ্যাপ ইন্সটল করতে পারবেন।আমরা অনেকেই আমাদের স্মার্ট ফোন গেম খেলে থাকি।আপনি যদি স্মার্ট টিভি ব্যাবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে খুব সহজেই আপনার স্মার্ট টিভিকে ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্ট করে যে কোন অ্যাপ/গেম ইন্সটল করে তা রান করে আপনার স্মার্ট টিভিতেই খেলতে পারবেন।স্মার্ট টিভি এর আরও একটি সুবিধা হল,আপনি চাইলেই যে কোন ডিজিটাল কন্টেন্ট আপনি আপনার স্মার্ট টিভি ইন্টারনেটে যুক্ত থাকা অবস্থায় ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

আপনি যদি শুধু আপনার টেলিভিশন এর উপর বিরক্ত হয়ে যান,আপনি চাইলে এখুনি আপনার টিভির ক্যাবল লাইন কেটে দিতে পারেন।কারন স্মার্ট টিভি ইন্টারনেটে যুক্ত থাকা অবস্থায় যেকোনো লাইভ অথবা ভিডিও আপনাকে দেখার সুবিধা দেয়।এটা যেকোনো ফ্রী অথবা পেইড সার্ভিস আপনাকে প্লে করার সুবিধা প্রদান করে।

আমরা আগেই জেনেছি স্মার্ট টিভি আপনাকে অনেক হাই কোয়ালিটি পিকচার দেখার সুবিধা প্রদান করে থাকে।এবন্নগ অন্যান্য যে কোন টিভি বেবহারকারির চাইতে ভালো মানের ছবি পেয়ে থাকে।এর পরে আপনার যদি কোন ইমেজ কোয়ালিটি পছন্দ না হয় তবে খুব অনায়েসেই আপনি আপনার স্মার্ট টিভির সেটিংস থেকে পিকচার কোয়ালিটি কাস্টোমাইজ করে নিতে পারবেন।

স্মার্ট টিভি আপনাকে দিবে ভয়েস কন্ট্রোল করার সুবিধা।আপনি যদি চিরচেনা ভয়েস শুনতে শুনতে একঘেয়েমি অনুভব করেন তাহলে শুধু মাত্র আপনার স্মার্ট টিভির ভয়েস কন্ট্রোল বাটনে চাপ দিয়ে আপনার পছন্দ মত পছন্দের ভয়েস সেট করে নিতে পারবেন।আর এই সুবিধা আপনার একঘেয়েমি দূর করতে সক্ষম।

আপনি ইচ্ছা মত আপনার স্মার্ট টিভিতে ভিডিও দেখতে পারেন।নেটফ্লিক্স এর মত সার্ভিস গুলো এখন আপনি আপনার স্মার্ট টিভি ব্যাবহার করে দেখতে পারবেন।এছারা ইউটিউব এর মত ফ্রী ভিডিও ওয়েবসাইট এর ভিডিও গুলো আপনি যে কোন সময় আপনার স্মার্টটিভি তে ফ্রী  উপভোগ করতে পারবেন।স্মার্ট টিভিতে দেখা যাবে এমন ভিডিও/ভিডিও দেখার ওয়েবসাইট এর সংখা দিন দিন বেড়েই চলেছে।তাই আপনার উচিত হবে স্মার্ট টিভি কেনা।

স্মার্ট টিভিতে রয়েছে অতরিক্ত ৩ টা পোর্ট,যার মাধ্যমে আপনি আপনার অন্যান্য ডিভাইস গুলো যেমনঃ স্মার্ট ফোন,ট্যাবলেট,ট্যাব ইত্যাদি খুব সহজেই আপনার স্মার্ট টিভির সাথে যুক্ত করতে পারেন।এই সুবিধা আসলেই অনেক কাজের।আমারা উপরে জেনেছি আমরা ইন্টারনেট এর সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায় আমাদের স্মার্ট টিভিতে যেকোন ডিজিটাল কন্টেন্ট ডাউনলোড করতে পারি।যখন এই ডাউনলোড করা ফাইলগুলো আমাদের অন্যান্য ডিভাইসে নিতে চাই,তখন এই পোর্ট গুলো আমাদের সেই ফাইলগুলো ট্রান্সফার করার সুবিধা প্রদান করে থাকে।

স্মার্ট টিভিতে রয়েছে ইন্টেলিজেন্ট সার্চ অপশন।কারন অনেকেই সঠিক ভাবে ইন্টারনেটে কোন কিছু সার্চ দিতে পারেনা।আমরা যেমন গুগলে কিছু সার্চ করতে গেলে কয়েকটা শব্দ লেখার পর গুগল আমাদের সাজেসট করে,ঠিক তেমনি স্মার্ট টিভি ও আমাদের সাজেসট করে।আর এর ফলে আমরা কোন সার্চ এর পূর্ণরূপ না জেনেও আমাদের কাঙ্কখিত ফাইল কুজে পেতে পারি।আর এই সুবিধাকেই স্মার্ট টিভির ইন্টেলিজেন্ট সার্চ সুবিধা বলা হয়ে থাকে।

আপনি হয়ত লক্ষ্য করেছেন!আপনি যে ধরনের কন্টেন্ট গুলো আপনার স্মার্ট ফোন ব্যাবহার করে এই পর্যন্ত দেখেছেন/সার্চ করেছেন অথবা ইউটিউবে প্লে করেছেন।আপনি কি খেয়াল করছেন পরবর্তীতে আপনি যখন ইউটিউবে যান ইউটিউব আপনার হোমপেজে সেই একই ধরনের কন্টেন্ট দেখায়।এটাকে অটো সাজেসট বলা হয়ে থাকে।স্মার্ট টিভিও আপনাকে একই সুবিধা প্রদান করে।আপনি বার বার যে কন্টেন্ট গুলো বেশী প্লে/দেখে থাকেন স্মার্ট টিভি পরবর্তীতে সেই ধরনের কন্টেন্ট গুলো আপনাকে দেখার জন্য সাজেসট করে থাকে।

আপনি চাইলে আপনার স্মার্ট ফোন অথবা ট্যাব দিয়ে আপনার স্মার্ট টিভিকে কন্ট্রোল করতে পারবেন,আবার চাইলে স্মার্ট টিভি দিয়ে আপনি আপনার ফোন অথবা ট্যাব কে কন্ট্রোল করতে পারবেন।অর্থাৎ,আপনি স্মার্ট ফোন দিয়ে টিভিতে থাকা সব কিছু আক্সেস করতে পারবেন আবার স্মার্ট টিভি দিয়ে আপনার ফোন অথবা ট্যাবে থাকা সব কিছু আক্সেস করতে পারবেন।এর জন্য আপনাকে শুধু ইউএসবি ক্যাবল এর সাহায্যে একটির সাথে আর একটি যুক্ত করে নিতে হবে।

স্মার্ট টিভিতে রয়েছে একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার।যা দিয়া খুব সহজেই আপনি ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন।ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য আপনাকে স্মার্ট টিভির রিমোট অথবা ভয়েস কমান্ড ব্যাবহার করতে হবে।আর স্মার্ট টিভি দিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার মতও সুবিধা আর কোন ডিভাইসে নাই বললেই চলে।

স্মার্ট ফোনের অ্যাপ এর মত স্মার্ট টিভিও আপডেট দিতে হয়।সবার ক্ষেত্রে আপডেট দেওয়া সম্ভব হয় না।অথবা অনেকেরই আপডেট দেওয়ার কথা মনে থাকে না।আর এই বিষয় কে মাথায় রেখে স্মার্ট টিভি যুক্ত করেছে অটো আপডেট ফিচার।আপনার আপডেট দেওয়ার কথা মনে না থাকলেও স্মার্ট টিভি আপডেট এর সময় হলে অটো আপডেট নিয়ে নিবে।

এছারাও আপনি চাইলে আপনার স্মার্ট টিভি ব্যাবহার করে সোশ্যাল ওয়েবসাইট ব্যাবহার করতে পারবেন।যদি ফেসবুকই ব্যাবহার না করা যায় তাহলে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে কি হবে।আর বেবহারকারির জন্য স্মার্ট টিভিতে রয়েছে সোশ্যাল ওয়েবসাইট ব্যাবহার করার সুবিধা।এটা আপনি অ্যাপ অথবা স্মার্ট টিভির ব্রাউজার ব্যাবহার করে তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি ব্যাবহার করতে পারবেন।অনেক টা আমার স্মার্ট ফোন ফেসবুক ব্যাবহার করার মত।স্মার্ট ফোনে আমরা চাইলেই ফেসবুক এর অ্যাপ থেকে ফেসবুক ব্যাবহার করতে পারি আবার চাইলেই স্মার্ট ফোনের ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যাবহার করে ফেসবুক ব্যাবহার করতে পারি খুব সহজেই।

এতক্ষণ আমরা স্মার্ট টিভি এর বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে জানলাম।এইগুলো ছারাও স্মার্ট টিভিতে আরও অনেক সুবিধা আছে, যে গুলো ব্যাবহার করলে আপনার খুবই ভালো লাগবে।আপনি হয়ত সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছেন যে স্মার্ট টিভি কিনবেন।যদি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে আমার এই লেখা সার্থক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy